অষ্টম ঘটিকা গত
অষ্টম ঘটিকা গত
অষ্টম ঘটিকা গত; নিঝুম এ কূল,
তিমিরে মগ্ন আজি নদীবক্ষতল।
নিস্তব্ধ সলিলে ভাসে নিশ্চল তরী,
ঘাটের সোপানে বাঁধা, নিস্পন্দ-অসাড়।
হে নাবিক, কেন তুমি নীরবে বসিয়া
অচল রাখিলে কেন তরীখানি এবে?
মুক্ত করো রজ্জু আজ, ভাঙো এ জড়তা,
ওপারে জাগিছে মোর প্রাণের প্রেয়সী।
বিরহিণী চাতকী যথা মেঘপানে চাহে,
তাহার আঁখিতে জমে অব্যক্ত বিরহ।
সারাটি দিবস ছিনু শুষ্ক প্রান্তরে,
জনস্রোত-মাঝে হায় লুপ্ত পরিচয়;
কর্মপাশে রুদ্ধ ছিনু দিবসভর,
শ্রান্তি-রেণু পুঞ্জীভূত অবশ হৃদয়ে;
তথাপি পরাণ মম রহে সেই পারে,
যেথা মম তরে জাগে মোর প্রাণপ্রিয়া।
মুক্ত করো হে তরী, নাশি নিথরতা,
তিমির-বক্ষ চিরি চলো মহাবেগে;
সেথা বাতায়নে পথ চাহিছে প্রিয়া,
নিমেষ গণিছে সে যে মেলিয়া নয়ন,
কিংবা নিবিছে দীপ বিরহ-বায়ে,
শুষ্ক অধরে জপিছে অস্ফুট নাম,
পাষাণ-ঘাটে সে প্রতিমা-সদৃশ বসি।
হে নাবিক, জানো কি এ বিলম্ব অসহ?
দীর্ণ করি জলরাশি চলো মহাবেগে।
গভীর হয়েছে নিশা, নিবিড় আঁধার,
অদূর ওপারে মোর নিবদ্ধ নয়ন;
অদৃশ্য সৈকতে হিয়া হারাইছে দিশা;
তব কৃপা-বলে ত্বরা ঘুচিবে বিচ্ছেদ,
লভিয়া মিলন-সুধা বিরামের তটে;
নচেৎ এ ভবঘুরে মিলাবে আঁধারে।