আছে কেবল ঘনান্ধকার, কাঁদতে হবে আলোর শোকে
আছে কেবল ঘনান্ধকার, কাঁদতে হবে আলোর শোকে
ঘাসের শিষে শীতের শেষে শিশির ভেজা প্রাক-বসন্তে
শ্রান্ত রোদের আবির মাখা ফাগুন দিনের সন্ধ্যা-প্রান্তে
যেই না হঠাৎ আরক্ত মেঘ ঘনিয়ে এলো ঈশান কোণে
ঘরপোড়া জীব আগুন ভেবে উতল হয়ে উঠলো মনে।
লাগলো মনে হাওয়ার ঝাপট, বিষণ্ন মেঘ-বিসম্বাদে
অ-ফলপ্রসূ চিন্তা শেষে, মগ্ন হয়ে ঘোর বিষাদে
ভাবলো "দড়ি ছিঁড়েই যদি ফেলি, ওদের কি হবে অন্যথা?
বৎস আমার, জায়া আমার, ওদের ছেড়ে ঘুরবো কোথা!"
ভাবতে বসে করলো স্মরণ চারণভূমি অবারিত
যে প্রান্তরে অনাদিকাল মুক্তি ছিল অনাদৃত;
আজ সন্ধ্যায় সিঁদুরে মেঘ কেন এমন দেখালো ভয়
কেন আজ এই অবেলাতে বাঁধনটাও নিরন্ধ্র নয়!
কেমন করে মোহের ঘোরে গোশালাতে পেয়েছে ঠাঁই
দেখলো ভেবে সে কথাও আজ সন্ধ্যায় স্মরণে নাই।
রজ্জু দেখে সর্প ভেবে হচ্ছে বুঝি অহেতুক ত্রাস-
ভাবতে ভাবতে দিনের আলো আঁধার করলো গ্রাস।
ভাঙলো যখন উরঙ্গ-ভ্রম, চেয়ে দেখে ক্ষীণালোকে
আছে কেবল ঘনান্ধকার, কাঁদতে হবে আলোর শোকে।