আমি অনিত্য বিরহী প্রবল কামনা
আমি অনিত্য বিরহী প্রবল কামনা
আমি অনিত্য বিরহী প্রবল কামনা ক্রমাগত করি দাহ,
নিয়ত নিয়তি বিদ্রুপ করে অকরুণ আশ্লেষে।
আজন্মলালিত দুঃখের খোঁজে ব্যাপৃত থেকে তবু
অসার আশার শ্রান্ত শিখা আপন আঁধারে মেশে।
আমার অবজ্ঞাত অভিমানের আত্মঘাতী এই দহনে
জ্বলছি আমি অবিরত, দুর্বহ অনল-প্লাবনে।
প্রারব্ধের দুর্বিপাকে নিয়ত নিরয়গামী
অস্তপ্রায় জীবনসূর্যে বেদনাতুর বিষণ্নতা;
সহস্রাধিক পথ চিনেছি গোলকধাঁধায় ঘুরে
অন্তিমে বুঝেছি কেবল নিষ্ক্রমনই ভার।
কৃতকর্মের প্রেতাত্মারা আমারই কৃতান্ত-দূত
সোল্লাসে গায় অবিশ্রান্ত নারকীয় অপযশ।
রসাতল হতে মুহুর্মুহু ডেকে বলে রবিসুত,
রৌরবও আমার অভাবে সতত রোরুদ্যমান।
আমার গন্তব্য কিছু অবিদিত নয়, তবু
মরীচিকার সন্ধানে যায় আয়ুষ্কালের সমস্তই।
অনুতাপের বিস্বনে রোজ শুনছি অবসাদের স্বনন,
বিদ্ধ হচ্ছি অবিরত মর্মপীড়ার আক্রমনে।
ক্রমান্বয়ে স্থবির হয়ে হারাচ্ছি যা ছিল আপন,
ঋদ্ধ হচ্ছি মহার্ঘ্য জীবন্ত জীবাশ্ম হয়ে।
অবলুপ্ত অস্মিতাকে স্মরণ করেই এখন আমি
ভালো থাকার যন্ত্রনাতে নিত্য করছি প্রায়শ্চিত্ত।