গোধূলির কোমল আশ্লেষ
গোধূলির কোমল আশ্লেষ
গোধূলির কোমল আশ্লেষ-
বিবর্ণ আলোয় নাচে ছায়া।
আর ফিসফিস দখিনা কূজন;
অনুরাগী অনুনাদে মায়া।
ঘুমপাড়ানি গানের গুঞ্জন
দুরন্ত শিশুকে করে ধীর।
এ বাঁধন সময়ের পাড়ে
আদরের বাহুতে নিবিড়।
যে মাঠে মিতালি ফোটে
সোনালী ফসল ভরে নিতি;
সৌহার্দ্য জড়িয়ে ধরে যেথা
অকাতরে আগলে রাখে স্মৃতি।
নির্জনতার শান্ত সে কোণ-
নিঃসঙ্গ জীবন যেখানে এসে
নিজের চেয়েও আপনতর
অন্য কোনো প্রাণের স্রোতে মেশে।
জনাকীর্ণ শহরের ব্যস্ত রাজপথে
যে পথিক চলমান অতি উদাসীন,
হয়তো সে পথিকের অশান্ত মনে
পথের প্রতিও জাগে ভালোবাসা ক্ষীণ।
নক্ষত্রের আলোময় ছাউনির নীচে
যেখানে কবিরা চায় সামান্য আশ্বাস;
নৈঃশব্দ্য সংগোপনে জানায় বারংবার
বিশ্বজগৎ বিপক্ষে নয়, আমার বিশ্বাস।
শরৎ-শেষের পাতাঝরা মৃদু কোলাহল
আকাশপটে মেঘের সাথে প্রণয় এঁকে যায়।
মৃদুমন্দ মলয় যেন ফিসফিসিয়ে বলে-
শোনো, ভালোবাসা জানায় না বিদায়।
এ'সব ছবির মাঝেও পড়ে ছায়া,
পুনরাবৃত্ত সব প্রাত্যহিক কাজে
আবেগের ঐকতান, বেদনার সুর-
আদরের সাথে সাথে বাজে।
ভুলে যাওয়া স্বপ্নের ধ্বংসাবশেষে
অবসন্ন স্মরণের মলিন প্রাচীরে
আশার নির্ঝর যেন ঢেলে দিয়ে আলো
গতিময় করে তোলে প্রাণ-তটিনীরে।