Story 2
Story 2
ভোরবেলায় ঘুম ভাঙলো পাড়ার লোকের চেঁচামেচিতে। চোখ কচলে বাইরে বেরিয়ে শুনি চোর ধরা পড়েছে, পাশে দোকানদার সৌভিক পানের শাড়ির দোকানে সিঁধ কেটেছিল ব্যাটা। পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছে, বড়বাবু যে কোনো মুহূর্তে এসে হাজির হবেন।
আমার খুব একটা কৌতুহল হলো না এই বিষয়ে। প্রাতঃকর্ম সেরে একটু পায়চারি করতে বেরোলাম বাইরে। দেখি বটগাছের তলায় বহু মানুষ জটলা করে আছে। কেউ কেউ উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করছে। শুনলাম এখনও পুলিশ এসে হাজির হয়নি। চোরটাকে বেঁধে রাখা হয়েছে গাছের সঙ্গে, লোকজন যে যেমন পারছে দু'একটা কিল-ঘুষি মেরে যাচ্ছে। আমি আর চোরের মুখ দেখতে পেলাম না ভিড়ের মধ্যে।
পায়চারি করে বাড়ির দিকে ফেরার পথে দেখলাম দারোগা বাবু এসেছেন সবে। জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। আমি ভিড়ের মধ্যে কোনোপ্রকারে ঢুকে গেলাম। শুনতে পেলাম দারোগবাবু জিজ্ঞেস করছেন- তা বাছা, তুমি তো ভদ্র ঘরের ছেলে; এসব চুরিচামারি কেন করতে এলে? হঠাৎ পরিচিত কন্ঠে উত্তর শুনতে পেয়ে অবাক হলাম, নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারিনি প্রথমে।
'চোর' বাবাজি উত্তর দিলেন- বউ গতকাল এই দোকান থেকে শাড়ি কিনেছে, বাড়ি গিয়ে সে শাড়ি আর পছন্দ হয়নি। ফেরত দিতে এলে দোকান থেকে বলেছে যে বিক্রিত মাল ফেরত নেওয়া হয়না। বউয়ের গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে আমি দোকানের তালা ভেঙে ঢুকে আলাদা ডিজাইন আর কালারের শাড়ি দেখাতে নিয়ে যাচ্ছি বউকে, বউয়ের কিছুই পছন্দ হয়না। এই করে করেই ভোর হয়ে গেল।
আমি লজ্জায় ভিড় থেকে বাইরে বেরিয়ে এলাম। হাজার হউক, শুকলাল আমার মিত্রস্থানীয় লোক। আমার সামনে এভাবে মার খাচ্ছে দেখলে আমার কষ্টই লাগবে। বাতাসী মেয়েটা যে এমন, ভাবতেই পারছি না।