অম্বরীশ & সফেদ শুভ্রতা
অম্বরীশ & সফেদ শুভ্রতা
মনোৎপন্ন অনুরক্তির দ্বারা তাড়িত হইয়া অন্তরীক্ষাধিপতি অম্বরীশ সফেদ শুভ্রতার নেশায় মত্ত হইবার নিমিত্ত আপন পীঠিকা পরিত্যাগ পূর্বক পশ্চাতে গমন করেন। সেখানে সহস্র মুহূর্ত অতিবাহন করিয়া এবং স্বীয় মুখব্যাদানের বিস্তৃতি বৃদ্ধি করিয়া, অনড় মনোযোগের সহিত নবদৃষ্ট শুভ্রতা অবলোকন করিয়া, অবশেষে অম্বরীশ পূর্বতন পীঠিকায় প্রত্যাগমন করেন। বিদায়ক্ষণের সামান্য বিবরণ বিবৃত হইল-
অম্বরীশ-
আজ্ঞা চাহি, হে বিশুদ্ধ শুভ্র শিরোমণি, যেতে নাহি
সাধ হয় আপনার স্থান। আজিকার এ দর্শন তবে
এতক্ষণে সাঙ্গ হোক; মন তব পদতলে অনুক্ষণ রবে।
ফিরিয়া আসিব তবু, বিশ্ব হোক প্রতিকূলবাহী।
সমুজ্জ্বল হেরি তব কমনীয় রূপ, বিধুমুখী,
এ আঁখিতে; ত্রিবিধ দুঃখ মোরে না করিবে দুঃখী।
জানি না কে-
সিদ্ধমনোরথ হও,
পশ্চাতে বা অগ্রে রও,
অদ্যকার অভিযানে কী ছিল তোমার মনে
সে কথা তো বলিলে না মুখে!
অম্বরীশ-
সে আর বিশেষ কিছু নহে!
জানি না কে-
দেখো ভাবি, তবু যদি স্মরণের সীমান্ত পেরিয়ে
অনুদ্দিষ্ট কিছু কথা আমাকে এড়িয়ে
বলো গিয়ে আপনার বন্ধুমহলে-
ভেবে দেখো, কাজটা কি হইবে তাহলে?
অম্বরীশ-
থাকে যদি অল্প কিছু না বলা বারতা,
জানি তুমি এ দু'চোখে পড়তে পারো তা।
কি আর লুকিয়ে লাভ, আজি যে হইলো ভাব
বসে বসে প্রক্রিয়াকরণ করি তা।
জানি না কে-
কী যে বুঝিলে তুমি, বুঝিতে বিফল নই আমি
কী হেতু তাকাও পিছে বারেবারে থামি!
মহলে উঠিবে বাজি সংবর্ধনার সুর,
একাসনে তুমি সনে বসিব, তা কল্পনাও দূর;
শান্তিতে না বসা যায়, কপিকুলে যে চ্যাচায়
হইহই রবে সব, যেইমাত্র তোমাপানে চাই!
অম্বরীশ-
এসো তবে, দুজনাতে পুঁথিগুলি
এইবেলা নকল করিয়া চলো আনি।
শুধু কি বিদ্যার তরে আসিয়াছি এত কষ্ট সহি!
মোর নাম অম্বরীশ, প্রণয়ে আমিও কম নহি।
যদি ফিরি মম গৃহে লয়ে গোছা গোছা পাণ্ডুলিপি
নিরীখিবে পিতা-মাতা, বলিবে, 'ও অবোধের ঢিপি,
কেন ভালে অধরের ছাপ নেই? কহিনু যে এত
একাকীত্ব দূর করে ফিরিবি এ জনমের মত!"
জানি না কে-
তোমার বারতা যদি পাই, অনুক্ত থাকেও নাম যদি
চিনিতে পারিব আমি, দ্বিধা নেই। শোনো, অদ্যাবধি
আসিয়াছে যে যে জন আমার নিকটে,
তন্মধ্যে শ্রেষ্ঠ তুমি, ইহা সত্য বটে।
ডাকিছ যখন তুমি, নির্জনে পদচারনার
সুযোগ পেয়েছি; না যাওয়া যে ঘোর যাতনার!
ফিরিবে স্বগৃহে আজ, গর্বভরে কহিবে পিতারে-
"জুটিয়াছে অপ্সরা, শীঘ্র শাদি করিব তাহারে।"