অসমঞ্জস প্রেম
অসমঞ্জস প্রেম
হইয়াছিল শুকলাল আর বাতাসীর মাঝে প্রকান্ড কলহ;
তায় শুকলাল ক্রুদ্ধ হইয়া ছাড়ি দিল শেষে আপন শ্বশ্রু গেহ।
বাতাসী বিহনে শুকলাল হলো প্রবল ছন্নমতি
পথিমধ্যে ধরিল তাহারে যুবতী অংশুমতী।
অংশুমতী যে ডাকাতরাণী সেকথা সকলে জানে
পাইলে পথিক লোটে সম্বল, মারেনাকো কভু প্রাণে।
শুকলাল তাই নির্ভয়, ভয় নাহিকো তেমন বেশি;
সে কি দুর্বল? কম কি তাহার সুদৃঢ় মাংসপেশী!
একে কলত্র করিয়াছে হাঙ্গামা,
তায় সামনে দন্ডায়মান যুবতী অংশুমতী
উদ্ভিন্নযৌবনা যাকে বলে-
শুক্লাল হেরি উত্তেজিত, অস্থিরমতি অতি।
অংশুমতীও কামজর্জর,
হেথা তরুমূলে বিদায় লভিতে ব্যাপৃত উপরতি।
হোথা বাতাসীর প্রাণ কমজোর-
পতিরে খুঁজিতে বাহিরিল পথে সাতিশয় দ্রুতগতি।
আসি কিছুদূর বটগাছতলে লভিল সে আশ্রয়
সচকিতে দেখে এদিকে ওদিকে, ডাকাতের আছে ভয়।
সহসা দেখিল গাছের কোটরে চেনাজানা ধুতি দোলে
বিধবা হবার ভয়ে প্রাণ তার আশ্রয় নিল গলে।
কাঁদিতে পারে না হেন দুখ তার, ভাবে এইবার হারালো সে বুঝি শুকলালসম পতি-
হেনকালে ঝোপ হতে বার হলো যুগপৎ শুকলাল আর যুবতী অংশুমতী।