পাত্রীস্থ হইবে জলধর
পাত্রীস্থ হইবে জলধর
যদ্যপি কেহ অবগত নহে, গুপ্ত রহিত নিঃসন্দেহে;
কেহ যে জানে না, ইহাই আমার প্রাণে দেয় বড় ব্যথা!
অদ্যাবধি জনগণ ছিল অজ্ঞানতার অন্ধকারে,
জনগণেশের হিতার্থে আজ প্রকাশিব এই গাঁথা।
জলধর বাছা যবে সাবালক হইতেছে ধীরে ধীরে,
পিতৃদেবের মনে বড় সাধ পৌত্রের এবং বধুমাতার।
পাত্রী খুঁজিতে ঘটক লাগিলো দুয়ারে দুয়ারে ফিরে
দূর গাঁয়ে খোঁজ পাওয়া গেল এক লজ্জাবতী লতার।
জলধরসম লাজুক কন্যা, নাজুক কৃশদেহে
দাঁড়াইয়া রহে সম্মুখে তবু জলধর নাহি চাহে।
লজ্জায় মরে- ভাবিয়া সকলে বাহিরিল ঘর হতে
জলধর তবু পারে না তাহার মুখখানি তুলিতে।
কন্যারত্ন পাথর হইয়া দন্ডায়মান, আর
জলধরের লাজে রাঙা মুখ ভার।
সামনে তাহার হবু গৃহিণী, জলধর তাহা ভুলে
'প্রণাম জননী' বলিল খোকা অবশেষে মুখ তুলে।
থমকিয়া চাহে কন্যা ক্ষণেক, ফোঁপাইয়া কহে তৎপর,
"বনবাসে দাও, তবু করিব না এই গাড়লের ঘর।"