শুকলাল এবং বাতাসীর প্রেম
শুকলাল এবং বাতাসীর প্রেম
একদা এক বেঞ্চির কোণে
শুকলাল বসে আপন মনে
গাঁজার সাথে মেশাচ্ছিল চুন
দূর হতে এক চপলা কিশোরী
সুরতনু হেরি আপনা পাশরি
বলিল, "মশাই, আপনার বহু গুণ
শুনিয়াছিলাম, করিলাম প্রত্যক্ষ;
আমি মম ভ্রম সকল হইল দূর।
আপনি ছিলেন আমার ধ্যানের লক্ষ্য,
মুগ্ধ হলেম হেরিয়া দৈব নূর।
এত শুনি শুকলাল তূরীয় উল্লাসে
সপ্তম স্বর্গ ভেদি পরিতোষে ভাসে।
ভাবিয়া দেখিল তার পাত্রী জোটে নাই
"এইবেলা কোনোমতে যদি পেয়ে যাই!
ইহাকেই করিতে হবে আমার বনিতা।"
কালক্ষয় না করিয়া, না করিয়া ভণিতা,
শুকলাল সরাসরি পাড়িল আসল কথা,
"চিত্ত মম দগ্ধ হয় খান্ডব-অরণ্য-যথা;
তোমারই বিহনে, সখী, অপূর্ণ এ মন।
তোমাকেই খুঁজে ফিরি নিতি অনুক্ষণ।"
শ্রবণগোচর হল "বাতাসী, বাতাসী" ডাক,
ললনা কহিল, "হায়, আমাকেই পাড়ে হাঁক,
আবার বাঁধিবে ওরা, অর্গল করিবে বন্ধ;
তুমি বিনে এ বাতাসী হয়ে রবে চির অন্ধ!"
জনাছয় পালোয়ান আসি সন্নিকট,
দাঁড়াইল হাতে লয়ে শিকল বিকট।
উভয়ে বাঁধিয়া ফেলে অতীব ত্বরিতে,
ধাক্কা দিয়া চলে পিছে মন্ত্রণা করিতে-
"এ দু'টোকে বিয়ে দিলে যায় চুকে ল্যাঠা,
চলো দেখি বাড়ি ফিরে কী বলে জ্যাঠা।
বাতাসীর মাথাতে যে আছে কিছু ব্যাধি,
সে কথা ভুলিয়া যাও বিবাহ অবধি।"
বিয়ের দু'দিন পরের কথা, লোকের মুখে শোনা,
তাই সত্যি নাকি মিথ্যে আমি জানি না ঘটনা।
শুকলাল নাকি গিন্নীরে তার শুধান স্নেহভরে,
গাঁজার কল্কে, চুনের কৌটো কোথায় গেল, জানো?
আমার কিছুই স্মরণে নেই ধোলাই খাওয়ার পরে।
বিয়ে দেবে, বললেই হয়, অমন করে মারা কেন!
আগেই তো রাজি ছিলাম, বাঁধা দিইছি যেন!
বলো দেখি কোথায় আমার পথ্য রাখার বাক্স?
কল্কে গেলে ভুগতে হবে রসরাজের কোপ।
হিসেব করে রোজ দু'বেলা খাওয়ার কথা,
বলেছিল খেলেই পাবে উন্মাদরোগ লোপ।